বাজেটে করছাড় দেওয়া সত্ত্বেও সাধারণ ক্রেতারা সোলার প্যানেল, ব্যাটারি ও ইনভার্টারে সেই সুফল পাচ্ছেন না। উল্টো লোডশেডিং বৃদ্ধির সুযোগে বাজারে চাহিদা বাড়ায় চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে এসব উপকরণ। ফলে উচ্চমূল্যের কারণে বাসাবাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন এখনও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরেই রয়ে গেছে।
সম্প্রতি লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় সোলার-প্যানেল সামগ্রী কিনতে গুলিস্তানে আসেন পুরান ঢাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আশিক হাসান। চলতি বছরের বাজেটে সৌরপণ্যে করছাড় দেওয়া হয়েছে—এমনটা শুনেছিলেন তিনি। তাই কিছুটা কম দামে সোলার সিস্টেম পাওয়ার আশা করেছিলেন। কিন্তু বাজারে এসে পণ্যের দাম শুনে অবাক হন।
তার প্রত্যাশার সঙ্গে বাস্তবের মিল নেই। বরং কয়েকটি দোকান ঘুরে তার মনে হয়েছে, করছাড়ের কোনো প্রভাবই পড়েনি বাজারে। আশিকের মতোই একই অভিজ্ঞতা হচ্ছে আরও অনেক ক্রেতার।
আরও পড়ুনকয়লার রামপালে এবার সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র, ব্যয় আড়াই হাজার কোটি টাকা
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে যখন বিকল্প হিসেবে সৌরবিদ্যুতের দিকে ঝুঁকছেন মানুষ, তখন সরকারের দেওয়া শুল্ক-কর ছাড়ের সুফল পৌঁছাচ্ছে না খুচরা বাজারে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে সোলার প্যানেল, লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি, ইনভার্টার ও মাউন্টিং স্ট্রাকচারসহ বিভিন্ন উপকরণে শুল্ক-কর কমানো বা অব্যাহতি দেওয়া হলেও রাজধানীর বাজারে এসব পণ্যের দাম কমেনি। বরং চাহিদা বাড়ার সুযোগে কোনো কোনো পণ্যের দাম বেড়েছে।
রাজধানীর গুলিস্তানে সুন্দরবন স্কয়ার সুপার মার্কেট/ছবি: জাগো নিউজ
খাতসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সরকারের দেওয়া সুবিধা মূলত নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান, রেসকো, ইপিসি ও অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে সীমিত। বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের জন্য একই সুবিধা না থাকায় শুল্ক-কর কমানোর ঘোষণা সরবরাহব্যবস্থার শেষ ধাপ, অর্থাৎ সাধারণ ভোক্তার কাছে পৌঁছাচ্ছে না। ফলে একদিকে সরকার সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করছে, অন্যদিকে উচ্চমূল্যের কারণে বাসাবাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে থাকছে।
আরও পড়ুনসোলার প্যানেল বসালেই কি বিদ্যুৎ বিল শূন্য হবে?
রাজধানীর নবাবপুর, কাপ্তান বাজার, সুন্দরবন স্কয়ার ও গুলিস্তান স্টেডিয়াম মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, ৫৫০ ওয়াটের একটি সোলার প্যানেল বিক্রি হচ্ছে ১৩ হাজার ৫০০ থেকে ১৯ হাজার ৫০০ টাকায়। ৫ কিলোওয়াটের ইনভার্টারের দাম ৪৮ হাজার থেকে ৭৭ হাজার টাকা এবং ৫ দশমিক ১২ কিলোওয়াট-ঘণ্টার লিথিয়াম ব্যাটারি ৯৮ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্যানেল, ইনভার্টার ও ব্যাটারি—এই তিনটি প্রধান উপকরণ কিনতেই খরচ হচ্ছে ১ লাখ ৬০ হাজার থেকে ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
বর্তমানে সোলার পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। কয়েক মাস আগে যে ব্যাটারি ১৮ থেকে ১৯ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে, এখন সেটি ২৩ থেকে ২৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। - কাপ্তান বাজারের তাসফিয়া সোলার অ্যান্ড ইলেকট্রিকের মালিক কামরুল ইসলাম
বাজার ঘুরে দেখা যায়, ২০০০-২৫০০ ওয়াট সোলার হাইব্রিড সেটআপ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ২ লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। করহার কমার পর দাম কমার প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে ক্রেতাকে বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে।
আরও পড়ুনলোডশেডিংয়ে ভরসা সোলার প্যানেল, দাম কত-কোথায় পাবেন জানুন আদ্যোপান্ত
অথচ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নতুন অর্থবছরের ব্যবস্থায় লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে শূন্য এবং সোলার প্যানেলের শুল্ক ১ শতাংশ থেকে শূন্য করা হয়েছে। সোলার ইনভার্টারও শুল্ক-কর অব্যাহতির আওতায় এসেছে। স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের মাউন্টিং স্ট্রাকচার, ব্যাটারি সেল ও ব্যাটারি প্যাকসহ বিভিন্ন উপকরণেও শর্তসাপেক্ষে রেয়াত দেওয়া হয়েছে।
বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা কোনো প্রকল্পে ব্যবহারের জন্য সরাসরি সোলার সরঞ্জাম আমদানি করলে শুল্ক সুবিধার পাশাপাশি অর্থায়নের সুযোগও থাকে। কিন্তু সাধারণ ভোক্তা স্থানীয় বাজার থেকে একই পণ্য কিনলে সেই সুবিধা তার কাছে পৌঁছায় না। ফলে বাজেটে ঘোষিত করছাড়ের সঙ্গে খুচরা বাজারের দামের মধ্যে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের ব্যবধান। - ব্যবসায়ী
কাপ্তান বাজারের তাসফিয়া সোলার অ্যান্ড ইলেকট্রিকের মালিক কামরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে সোলার পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। প্যাকেজ আকারে বিক্রি বাড়লেও দাম কমেনি। কয়েক মাস আগে যে ব্যাটারি ১৮ থেকে ১৯ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে, এখন সেটি ২৩ থেকে ২৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
রাজধানীর গুলিস্তানে সুন্দরবন স্কয়ার সুপার মার্কেটে সোলার-প্যানেল বিক্রি বেড়েছে/ছবি: জাগো নিউজ
কাপ্তান বাজার শপিং কমপ্লেক্সের সোলার পণ্য বিক্রেতা সামশুল বলেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাট বেড়ে যাওয়ার পর আমদানিকারক ও ডিলাররা সোলার পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। ফিটিং ও সার্ভিস চার্জ ছাড়া দুই কিলোওয়াটের একটি সোলার সিস্টেমের প্যানেল ও ব্যাটারির দাম প্রায় ৭৪-৮০ হাজার টাকা পড়ছে।
আরও পড়ুননবায়নযোগ্য জ্বালানি / সারাদেশে নতুন উদ্যোক্তা ও সার্ভিস প্রোভাইডার তৈরির উদ্যোগ সরকারের
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা কোনো প্রকল্পে ব্যবহারের জন্য সরাসরি সোলার সরঞ্জাম আমদানি করলে শুল্ক সুবিধার পাশাপাশি অর্থায়নের সুযোগও থাকে। কিন্তু সাধারণ ভোক্তা স্থানীয় বাজার থেকে একই পণ্য কিনলে সেই সুবিধা তার কাছে পৌঁছায় না। ফলে বাজেটে ঘোষিত করছাড়ের সঙ্গে খুচরা বাজারের দামের মধ্যে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের ব্যবধান।
দেশে সৌরবিদ্যুতের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে নীতিগত সহায়তা বাড়াতে হবে। অন্তত দুই বছরের জন্য কর অবকাশ সুবিধা দেওয়া হলে এর সুফল সাধারণ মানুষ পেতে পারে। এতে নতুন বিনিয়োগ আসবে এবং উদ্যোক্তাও তৈরি হবে। - বিএসআরইএর সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ
এই বৈষম্যের বিষয়টি সম্প্রতি বিদ্যুৎ বিভাগের সচিবকে দেওয়া এক চিঠিতে তুলে ধরেছে বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ)। সংগঠনটির দাবি, একই সৌরপণ্যে আমদানিকারকের ধরন অনুযায়ী শুল্ক-কর কাঠামোয় বড় পার্থক্য রয়েছে।
বিএসআরইএর হিসাব অনুযায়ী, লিথিয়াম সেল, ব্যাটারি, ব্যাটারি প্যাক, ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম ও মাউন্টিং স্ট্রাকচারে বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের মোট শুল্ক-কর ৫৮ দশমিক ৪ শতাংশ। একই পণ্যে রেসকো ও ইপিসির ক্ষেত্রে তা প্রায় ১৭ শতাংশ। সোলার ইনভার্টারে বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের মোট শুল্ক-কর ২৮ শতাংশ। ডিসি ক্যাবলে তা ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ।
আরও পড়ুনমিরসরাইয়ে হচ্ছে ৫০ মেগাওয়াটের সোলার পার্ক
সংগঠনটির দাবি, সোলার পিভি মডিউল আমদানিতে প্রতি কেজিতে ৩ মার্কিন ডলারভিত্তিক কাস্টমস মূল্যায়ন ব্যবস্থার কারণে ঘোষিত শুল্কের চেয়ে প্রকৃত করভার অনেক ক্ষেত্রে ২৮ থেকে ২৯ শতাংশে দাঁড়াচ্ছে। এ পদ্ধতি বাতিল করে প্রকৃত ইনভয়েস মূল্য ও আন্তর্জাতিক বাজারদরের ভিত্তিতে মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছে তারা।
বিএসআরইএর সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ জাগো নিউজকে বলেন, দেশে সৌরবিদ্যুতের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে নীতিগত সহায়তা বাড়াতে হবে। অন্তত দুই বছরের জন্য কর অবকাশ সুবিধা দেওয়া হলে এর সুফল সাধারণ মানুষ পেতে পারে। এতে নতুন বিনিয়োগ আসবে এবং উদ্যোক্তাও তৈরি হবে।
আরও পড়ুনবিদ্যুতের চাপ কমাতে ব্যাটারি রিকশায় সোলার চালুর পরিকল্পনা ডিএসসিসির
এনগ্রিন ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, সরকার বাণিজ্যিকভাবে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে করছাড় দিলেও এর সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। সোলার মাউন্টিংয়ে প্রায় ৫৮ শতাংশ এবং ব্যাটারিতে ৬৪ শতাংশ পর্যন্ত কর রয়েছে। সোলার পণ্য মানুষের দোরগোড়ায় নিতে কিছু সময়ের জন্য কর অবকাশের পাশাপাশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
তবে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সৌরপণ্য আমদানিতে সরকার দীর্ঘদিন ধরেই নীতি সহায়তা দিয়ে আসছে। চলতি বাজেটেও করছাড় দেওয়া হয়েছে। সব ধরনের পণ্যে কর শূন্য করে দিলে নিম্নমানের পণ্যে বাজার ছেয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব এলে তা বিবেচনা করা হবে।
দেশে বর্তমানে নেট মিটারিংভিত্তিক ৪ হাজার ৫৫১টি রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনা রয়েছে। এসব স্থাপনার মোট সক্ষমতা ২১৩ দশমিক ৩ মেগাওয়াট। শুধু ২০২৫ সালে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ১ হাজার ৫৩১টি স্থাপনা। মোট স্থাপনার ৬০ দশমিক ৪ শতাংশ ঢাকা বিভাগে। - সিপিডি
সৌরবিদ্যুতের চাহিদা বাড়লেও দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি সক্ষমতা এখনও খুবই সীমিত। টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) জুলাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির মোট স্থাপিত সক্ষমতা ১ হাজার ৮০৬ দশমিক ৮ মেগাওয়াট। দেশের মোট ৩২ হাজার ৪৫৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার বিপরীতে এর অংশ মাত্র ৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
আরও পড়ুনসাড়ে ৬ শতাংশ সুদে ঋণ মিললে সোলারে যাবে আরও ১৩০০ পোশাক কারখানা
অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিভাগের খসড়া কৌশলপত্রে ২০৩০ সালের মধ্যে আরও ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সক্ষমতা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে রুফটপ সোলার থেকেই ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। সরকারের বৃহত্তর পরিকল্পনায় আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সৌরশক্তি থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যও রয়েছে।
রুফটপ সোলারের ক্ষেত্রে কিছু অগ্রগতি অবশ্য দেখা যাচ্ছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে নেট মিটারিংভিত্তিক ৪ হাজার ৫৫১টি রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনা রয়েছে। এসব স্থাপনার মোট সক্ষমতা ২১৩ দশমিক ৩ মেগাওয়াট। শুধু ২০২৫ সালে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ১ হাজার ৫৩১টি স্থাপনা। মোট স্থাপনার ৬০ দশমিক ৪ শতাংশ ঢাকা বিভাগে।
জাতীয় নিরাপত্তার জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দেশের নিজস্ব জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে যেতে হবে। পরিবেশ দূষণ কমানোর দিক থেকেও এর গুরুত্ব রয়েছে। - বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন
নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে বাসাবাড়ি ও প্রতিষ্ঠানে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যায়। এতে একদিকে গ্রাহক নিজের বিদ্যুৎ চাহিদার একটি অংশ মেটাতে পারেন, অন্যদিকে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপও কমে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে দেশের জ্বালানি ব্যবস্থার বড় অংশ আমদানিনির্ভর। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও বৈদেশিক মুদ্রার চাপের কারণে প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি আমদানি কঠিন হয়ে পড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। এরই মধ্যে বাড়ছে লোডশেডিং ও শিল্পকারখানার জ্বালানি সংকট।
আরও পড়ুনছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সহযোগিতা করবে চীন
এ অবস্থায় সৌরবিদ্যুৎকে কেবল বড় শিল্পপ্রকল্পের বিকল্প হিসেবে দেখলে সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকার যেভাবে ভর্তুকি দেয়, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রেও একইভাবে ভোক্তা পর্যায়ে আর্থিক সহায়তা, সহজ কিস্তির ঋণ ও সুদে ছাড় দিতে হবে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দেশের নিজস্ব জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে যেতে হবে। পরিবেশ দূষণ কমানোর দিক থেকেও এর গুরুত্ব রয়েছে।
এসএম/এমআরএম