ম্যাচের এক দিন আগে হুট করেই পর্তুগালের ক্যাম্প ছেড়ে চলে গেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। জানিয়েছেন, সময়মতো কারণ জানিয়ে দেবেন। এ নিয়ে পর্তুগিজ ফুটবলে তুমুল আলোড়ন। পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ীকে জাতীয় দলে অসম্মান করা হয়েছে কি না, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে পক্ষে–বিপক্ষে আলোচনা।
এর মধ্যেই কমতে শুরু করেছে পর্তুগাল ফুটবল দলের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অনুসারী। রোনালদো ক্যাম্প ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার পর পর্তুগাল দলের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে এক দিনের মধ্যে পাঁচ লাখের বেশি অনুসারী কমেছে।
পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের বিরুদ্ধে ‘ডিজিটাল বয়কট’ চলছে জানিয়ে এক রোনালদো সমর্থক মন্তব্য করেছেন, ‘আমরা পর্তুগালকে অনুসরণ করিনি, আমরা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে অনুসরণ করেছি।’ বুধবার রোনালদোর ক্যাম্প ছাড়ার ঘোষণার আগে পর্তুগাল জাতীয় দলের ইনস্টাগ্রাম অনুসারী ছিল প্রায় ২ কোটি ৪৯ লাখ ৫০ হাজার। এরপর প্রথম ১৮ ঘণ্টায় অনুসারী কমেছে ৫ লাখ ৪৬ হাজারের বেশি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অ্যাকাউন্টটির অনুসারী সংখ্যা ছিল দুই কোটি ৪৪ লাখ।
কী ঘটেছে
উয়েফা নেশনস লিগের উদ্বোধনী ম্যাচে ওয়েলসের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানের জয়ে পর্তুগালের হয়ে শুরু থেকেই খেলেছিলেন রোনালদো। কোচ হোর্হে জেসুসের দাবি, নরওয়ের বিপক্ষে পরের ম্যাচে রোনালদোকে না খেলানোর বিষয়ে আগে থেকেই সমঝোতা হয়েছিল। সেই ম্যাচে তাঁর জায়গায় একাদশে ছিলেন গনসালো রামোস।
তবে শেষ মুহূর্তে জেসুস রোনালদোকে জানান, দ্বিতীয়ার্ধে ৩০ মিনিট খেলাবেন তাঁকে। কিন্তু ম্যাচ চলার সময় আবার সিদ্ধান্ত বদলান। শেষ পর্যন্ত রোনালদোকে মাঠে নামাননি।
জেসুস এ নিয়ে পরে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘ম্যাচের গতিবিধি অনেক কিছু নির্ধারণ করে দেয়। তাঁকে নামানোর জন্য তখন সময়টা উপযুক্ত মনে হয়নি।’
বেঞ্চে বসেছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোনরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের পর পর্তুগালের অন্য খেলোয়াড়েরা গ্যালারির দর্শকদের সামনে গেলেও রোনালদো সরাসরি লকার রুমে চলে যান। এরপর মঙ্গলবার দলের অনুশীলন ভেন্যুতে গেলেও অনুশীলন না করে ফিরে যান। পরিস্থিতি সামাল দিতে রোনালদো, কোচ জেসুস ও পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পাওলো প্রোয়েনসার মধ্যে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
তবে জেসুসের সংবাদ সম্মেলনের পর সেই সমঝোতার সম্ভাবনাও নষ্ট হয়ে যায়। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়েছিলেন, রোনালদোকে নিয়ে মাত্র দুটি প্রশ্নের উত্তর দেবেন। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনের প্রায় পুরো আলোচনাই শেষ পর্যন্ত রোনালদোকে ঘিরে চলে আসে।
সেখানে এক প্রশ্নের জবাবে জেসুস বলেন, ‘নিয়ম সবার জন্যই একই। কোচ খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ার ও অতীত বিবেচনায় নেন। কিন্তু ম্যাচের সময় সবাইকে একইভাবে দেখা হয়। কারও মর্যাদা তাকে আলাদা কোনো অধিকার দেয় না। ক্লাবে সভাপতিই দায়িত্বে থাকেন। জাতীয় দলে আমিই দায়িত্বে। কোনো খেলোয়াড় কখনোই আমার সিদ্ধান্ত বদলাতে পারবে না। ফুটবলের আর কেউ পারবে না। কোনো সভাপতিও নয়। কখনোই নয়।’
এই কড়া বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর জাতীয় দলের অনুশীলন শুরুর আগেই কোপেনহেগেনের পার্কেন স্টেডিয়াম ছেড়ে যান রোনালদো। কিছুক্ষণ পর ইনস্টাগ্রামে তিনি বলেন, ‘জাতীয় দলের কোচের সংবাদ সম্মেলনের পর এবং পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির সঙ্গে কথা বলার পর আমি জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
রোনালদোর বিস্ফোরক ঘোষণা, পর্তুগালের ক্যাম্প ছেড়ে বললেন ‘সময়মতো কারণ জানাব’